আগাম প্রস্তুতির কারণে চলতি বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত শুল্কনীতির প্রভাব সামলে নিতে পেরেছে ইউরোপের ব্যবসা খাত। কিন্তু মার্কিন শুল্ক ও অন্যান্য বাণিজ্য উত্তেজনা আগামী বছর তুলনামূলকভাবে বাড়বে বলে বিজনেস ইউরোপের এক জরিপে উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।
জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাবে ইউরোজোন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) ও অন্যান্য কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের জিডিপি দশমিক শূন্য ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমতে পারে। কিন্তু ২০২৬ সালে তা প্রায় দশমিক ৫ থেকে দশমিক ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দেখা দিতে পারে ইউরোজোনে।
ইউরোপের জাতীয় পর্যায়ের ৩৬টি ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ব্যবসাবিষয়ক লবিস্ট গ্রুপ বিজনেস ইউরোপ। এতে ইইউর পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক ও ইউক্রেনের মতো ইইউ-বহির্ভূত দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিজনেস ইউরোপ জানিয়েছে জরিপটি ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) পূর্বাভাসের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। ইসিবির গবেষণা অনুসারে, মার্কিন শুল্ক ও বাণিজ্য অস্থিরতার প্রভাবে ২০২৫-২৭ সালের মধ্যে ইউরোজোনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট কমতে পারে।
ইইউর আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, এর আগে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরো বেশি হারে কমার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু জুলাইয়ের শেষ দিকে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর শুল্কনীতি সংক্রান্ত অস্থিরতা দ্রুত কমেছে।
বিজনেস ইউরোপ বলেছে, কোম্পানিগুলো এখনো ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে পারছে না। মার্কিন শুল্কের অনিশ্চয়তা ও এর পরোক্ষ প্রভাব মধ্যমেয়াদে এ খাতের প্রবৃদ্ধির জন্য সমস্যা তৈরি করছে।